বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০১:৪৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দালাল-বেঈমানের জন্মদাতা কুখ্যাত ইব্রাহিমকে পাহাড়ি জনগণ কখনই ক্ষমা করবে না! টেকনাফে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা খাগড়াছড়িতে অটোরিকশা চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার থানচি বাজার সড়কের বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে ফিলিস্তিন সংকট:বেসামরিক নাগরিকদের গাজা ত্যাগের জন্য সময় নির্ধারণ করাই ইসরাইলের উদ্দেশ্য কুতুবদিয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করলো তুরস্ক মাস্ক পরে অনুশীলনে বাংলাদেশ, দিল্লিতে ম্যাচ নিয়েও শঙ্কা গর্জনিয়ায় পানিতে ডুবে হেফজখানার ছাত্রের মৃত্যু পাকিস্তানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের রানের পাহাড়

চকরিয়ায় ৯১ মণ্ডপে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব, প্রশাসনের ব্যাপক প্রস্তুতি

ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০২২
  • ৪০ পঠিত

শনিবার (১ অক্টোবর) থেকে কক্সবাজরের চকরিয়ায় শুরু হয়েছে সনাতনী সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী দুর্গাপুজা। এই দুর্গোৎসবকে ঘিরে সনাতন সম্প্রদায়ের মাঝে আনন্দ ও উৎসাহ বিরাজ করলেও আতঙ্কও কাজ করছে। গতবছর ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে সারা দেশব্যাপী ঘটে যাওয়া ঘটনার প্রক্ষিতে সনাতনীদের মাঝে এই আতঙ্ক বিরাজ করছে।

অবশ্য এবছর স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার ঘাটতি থাকবেনা বলে আশ্বাস দেয়া হচ্ছে। এজন্য নেয়া হচ্ছে তিন ধরনের নিরাপত্তার প্রস্ততি। প্রতিটি মণ্ডপে স্থায়ীভাবে থাকবে আনসার বাহিনী। এছাড়াও পুলিশ ও বিজিবি টহলের পাশাপাশি প্রতি ইউনিয়নে মোবাইল টিম থাকবে। এদিকে, শেষ মুহূর্তে চলছে প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততা। তুলির আঁচড়ে রাঙ্গিয়ে তুলছেন প্রতিমাকে।

চকরিয়া পূজা উদযাপন পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমা ও ঘট পূজাসহ মোট ৯১ টি পূজা মণ্ডপে দুর্গোৎসব পালিত হবে চকরিয়ায়। তন্মধ্যে প্রতিমা পূজা ৪৮টি আর ঘট পূজা ৪৩টি। শান্তিপূর্ণভাবে যাতে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে পারে এ লক্ষ্যে প্রশাসন ও পরিষদের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্ততি। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের সাথে পূজা উদযাপন কমিটি ও স্ব স্ব মণ্ডপের প্রতিনিধিরা একাধিকবার সভাও করেছেন।

চকরিয়া সার্বজনীন কেন্দ্রীয় হরি মন্দির দুর্গা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ডা. অসীম কান্তি দে (রুবেল) ও সাধারণ সম্পাদক ডাবলু কান্তি দাশ বলেন , ঝাঁকজমকপূর্ণভাবে ‘মা’ দুর্গার অর্চনা করার উদ্দেশ্য থাকলেও নিরাপত্তা নিয়ে খুব শঙ্কিত। গত বছর একটা আতঙ্কের মধ্য দিয়ে পূজা উদযাপন করতে হয়েছে। আমরা আনন্দ-উৎসবমুখর পরিবেশে মায়ের আরাধনা করতে চাই। এজন্য প্রশাসনসহ সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

তারা বলেন, প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। শুধু মাত্র রংয়ের তুলিতে মা’কে সম্পন্নরূপে ফুটিয়ে তোলার কাজ বাকি রয়েছে। পেন্ডেলের কাজও শেষ হয়েছে। এবার ২৫ সেপ্টেম্বর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসব আরম্ভ হয়েছে। পূজায় পাঁচদিন পর্যন্ত বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন থাকবে।

বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্ঠান ঐক্য পরিষদ চকরিয়া উপজেলার সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মুকুল কান্তি দাশ ও চকরিয়া পৌরসভা শাখার সভাপতি নারায়ন কান্তি দাশ বলেন, দুর্গা পূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনুষ্ঠান হলেও অন্য সম্প্রদায়ের লোকজনও এই উৎসবে সামিল হন। দেশের অন্যান্য জায়গার তুলনায় চকরিয়া একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির এলাকা। কিন্তু গত বছর ধর্ম অবমাননার অবিযোগে দেশব্যাপী সনাতনী সম্প্রদায়ের মন্দির, ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এর থেকে বাদ যায়নি চকরিয়াও।
তাই সনাতনী সম্প্রদায়ের মধ্যে পূজোকে ঘিরে যে আতঙ্ক বিরাজ করছে সেজন্য প্রশাসনকে আরও কঠোর হতে হবে। দুর্গোৎসব যাতে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয় সেজন্য ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে সবধরনের সহায়তা করা হবে।

চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন কান্তি দাশ ও সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ বলেন, উপজেলার এবার ৪৮টি মণ্ডপে প্রতিমা পূজা এবং ৪৩টি মণ্ডপে ঘট পূঁজা অনুষ্ঠিত হবে। তৎমধ্যে চকরিয়া পৌরসভায় ৭টি, উপজেলার ফাঁসিয়াখালীতে ৮টি, কাকারায় ৩টি, বরইতলীতে ৬টি, হারবাংয়ে ৮টি, সাহারবিলে ২টি, ডুলাহাজারায় ৭টি, খুটাখালীতে ১টি, চিরিংগা ইউপিতে ১টি, কৈয়ারবিলে ৩টি ও পূর্ব বড় ভেওলায় ২টি মণ্ডপে প্রতিমা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। দুর্গোৎসব যাতে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয় সেজন্য উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তারা আরও বলেন, গত বছর ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দুর্গোৎসবের সময় সারাদেশে পূজা মণ্ডপ, সনাতনী সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ভাংচুরসহ বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এর থেকে বাদ যায়নি চকরিয়া-পেকুয়াও। তাই পূজা কমিটির পক্ষ থেকে প্রশাসনকে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চন্দন কুমার চক্রবর্তী বলেন, দুর্গা পূজা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উদযাপন করতে তিন স্তরের নিরাপত্তাবলয় থাকবে। মোতায়েন থাকবে পুলিশের একাধিক মোবাইল টিম। মোটরসাইকেল নিয়ে পুলিশ সদস্যরা টহলে থাকবে। এছাড়া সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্যরা পূজা মণ্ডপের আশেপাশে নিয়োজিত থাকবে। আশা করি সুষ্ঠুভাবে দুর্গোৎসব সম্পন্ন হবে।

তিনি বলেন, গত বছর করোনা মহামারির ভয়াবহতার কারণে পূজা মণ্ডপগুলোতে স্থায়ীভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়ের ছিলোনা। এবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আবেদন করেছি যাতে মণ্ডপগুলোতে স্থায়ীভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন রাখা যায়।

চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেপি দেওয়ান বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা। গত বছরের মতো যাতে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য প্রতিটি পূজা মণ্ডপে আনসার মোতায়েন থাকবে।

পাশাপাশি পুলিশ ও বিজিবি টহলে থাকবে। এরমধ্যে পূজা কমিটি ও সনাতন ধর্মাবলম্বী নেতাদের সাথে নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মতবিনিময় সভা করা হয়েছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কমিটির সদস্যদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর ন্যায় এবারেও সরকারিভাবে পূজোর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পূজাতে যাতে আইন-শৃঙ্খলায় কোন সমস্যা না হয় সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Let's check your brain 3 + 3 =

একই ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved 2022 CHT 360 degree