বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দালাল-বেঈমানের জন্মদাতা কুখ্যাত ইব্রাহিমকে পাহাড়ি জনগণ কখনই ক্ষমা করবে না! টেকনাফে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা খাগড়াছড়িতে অটোরিকশা চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার থানচি বাজার সড়কের বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে ফিলিস্তিন সংকট:বেসামরিক নাগরিকদের গাজা ত্যাগের জন্য সময় নির্ধারণ করাই ইসরাইলের উদ্দেশ্য কুতুবদিয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করলো তুরস্ক মাস্ক পরে অনুশীলনে বাংলাদেশ, দিল্লিতে ম্যাচ নিয়েও শঙ্কা গর্জনিয়ায় পানিতে ডুবে হেফজখানার ছাত্রের মৃত্যু পাকিস্তানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের রানের পাহাড়

পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি সংগঠনগুলো কেন বিজয় দিবস পালন করে না?

মেজর নাসিম হোসেন (অব.)
  • প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ৬৯ পঠিত

প্রতিবারই এই ঘটনাটি ঘটে। আমাদের পাহাড়ি সংগঠনগুলো নানান সময় নানা দাবি নিয়ে সোচ্চার হন। তারা নিজেদের এই দেশের নাগরিক বলেও দাবি করেন। কিন্তু শিক্ষিত-অশিক্ষিত, বড়-ছোট নির্বিশেষে তারা সব ভেদাভেদ ভুলে একটি কাজ খুবই একাগ্রতার সাথে করেন। তা হলো বাংলাদেশের ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত ঐতিহাসিক দিনগুলো তারা অবজ্ঞা ও অবহেলার সাথে এবং খুব সচেতনভাবে এড়িয়ে যান।

তারা একুশে ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস, ১৫ আগস্ট শোক দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ কোনো দিবসেই বৃহওর সমাজের সাথে একত্রিত হন না। আমাদের জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ এসব দিবস পালন না করার মাধ্যমে তারা হয়তো একটা বার্তা আমাদের দিতে চান, সেই বার্তাটি হলো, তারা আসলে এই দেশের নাগরিক নন। যদিও তারা বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সকল ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা নিয়ে থাকেন; চাকরি, উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি, বিদেশে উচ্চ শিক্ষা বৃত্তি, বিদেশে প্রতিনিধিত্ব সব ক্ষেত্রেই তারা বিশেষ কোটার সুযোগ নিয়ে থাকেন। এত সুবিধা নিয়েও তারা সম্মিলিতভাবে দেশের প্রতি কি আনুগত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সচেতনভাবেই দূরে সরে থাকেন? তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন এসে যায়, তারা যখন দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাহিনী, দূতাবাসে চাকরি নেন তখন তারা আসলে কী শপথ নেন? কেননা, দেশের প্রতি, দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি তাদের আনুগত্য নিয়ে তো তারাই প্রশ্ন তৈরির সুযোগ করে দিচ্ছেন। তাই তারা দেশের স্বার্থ কীভাবে রক্ষা করবেন, যদি তাদের মননে দেশের প্রতি অবিচল আস্থা ও বিশ্বাস না থাকে?

ব্যাস! এই কথা উচ্চারিত হওয়ার সাথে সাথে তারা এন্তার সব প্রমাণ নিয়ে হাজির হবেন কত কত ‘আদিবাসী’ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন তার ঠিকুজি নিয়ে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পাহাড়িদের রাজনৈতিক সংগঠনগুলো এসব পাহাড়ি মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আলাদা করে সম্মান প্রদর্শনের জন্য হলেও কোন কর্মসূচি দেন না বা সংহতি প্রদর্শন করেন না।

পাহাড়িদের এই বিচ্ছিন্নতাবোধের ঐতিহাসিক কারণটা আনন্দ বিকাশ চাকমা তার ‘কার্পাস মহল থেকে শান্তি চুক্তি’ বইতে উল্লেখ করেছেন। পাহাড়িদের কৌমার্য রক্ষার জন্য বৃটিশদের প্রণীত হিল ট্র্যাক্ট ম্যানুয়েল ১৯০০ বিধি, যা পাহাড়িদের কাছে ‘ম্যাগনা কার্টা’ নামে পরিচিত; তা পাহাড়িদের মধ্যে একটা সন্দেহ ও বিচ্ছিন্নতাবোধ সৃষ্টি করেছে, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে রক্তের ধারার মতো প্রবাহিত হচ্ছে।

পাহাড়িদের মূল সংগঠন জেএসএস, ১৯৭১ মানবেন্দ্র নারায়ন লারমার নেতৃত্ব মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ থেকে বিরত থেকেছে, নিষ্ক্রিয় থেকেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে মুক্তিয়োদ্ধাদের প্রতিহত করেছে। তাদের সেই উদাসীনতা এখন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হচ্ছে। তাদের মানসে হয়তোবা পুরো বাংলাদেশের মানচিত্র নেই।

১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে পুরো জাতি যখন গাইছে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ পাহাড়ি সংগঠনগুলো খুব সচেতনভাবে জাতীয়ভাবে গর্বের এই মাহেন্দ্রক্ষণটি পার করে গেছে। এরাই হয়তো আবার ৯ আগস্ট রাজধানীতে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণ প্রকম্পিত করবে ‘আমি বাংলাদেশের আদিবাসী’ বলে।

১৯৪৭ সালে রাঙামাটিতে ভারতীয় পতাকা উড়িয়ে ছিলেন স্নেহ কুমার চাকমা, ১৯৭১ সালে রাজা ত্রিদিব রায় পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন। তিনি জীবনের শেষ দিনটি পর্যন্ত পাকিস্তানের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছিলেন। তিনি একটি বারও অনুতপ্ত হননি। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৩ সালে চাকমা রাজার মা বিনীতা রায়কে নিউইয়র্ক পাঠিয়েও তার মাধ্যমে ত্রিদিব রায়কে দেশে ফেরাতে পারেননি। আসলে তো বাংলাদেশকে তিনি তার মানসপটে স্থান দেননি। তার সেই মানসিকতা এখন প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ তার পুত্র রাজা দেবাশীষকেও জাতীয় কোনো দিবসের কর্মসূচিতে কোথাও আমরা দেখি না।

সন্তু লারমা ১৯৭৩ সালে দীঘিনালায় বাঙালি বিরোধী পোস্টার ছাপিয়ে আওয়াজ তুলেছিলেন,
‘পাহাড়িরা অস্ত্র ধরো বাংগালীরা পাহাড় ছাড়ো’
‘বাংগালীর রক্ত নিবা পাহাড়িরা স্বাধীন হবা’।

শত শত বাঙালির রক্ত যার হাতে লেগে আছে সেই সন্তু লারমার পক্ষে ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’ এই জাতীয় সংগীত উচ্চারণ করা কি কোনো সহজ কাজ?

তার মননে আসলে অখণ্ড স্বাধীন বাংলাদেশের স্থান নেই। বাংলাদেশের পতাকা তারা হৃদয়ে ধারণ করেন না। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অখণ্ডতা তারা হৃদয়ে ধারণ করেন না। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুকে তারা হৃদয়ে ধারণ করেন না। তারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেন না। তাই ঢাকার রাজপথে তার অনুসারীরা স্লোগান তোলে, ‘শান্তি বাহিনীর হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেক বার’। শহীদ দিবসে শহীদ মিনারে রাজা দেবাশীষের দেখা মিলে না, দেখা মিলে জাতিসংঘের আদিবাসী ফোরামে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে স্যাংশন আরোপের আহবানে।

তাই মনে প্রশ্ন জাগে, এরা বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পদে গেলে বাংলাদেশের স্বার্থ কতটুকু রক্ষিত হয়? বাংলাদেশের গোপন তথ্য কতটুকু নিরাপদ থাকে? বহিঃশত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করার যে শপথ এরা চাকরি নেওয়ার সময় নেন তা কতটুকু বিশ্বাসযোগ্য? বাংলাদেশটা কি দরকার শুধু চাকরির কোটা পবার জন্য? ভর্তির কোটা নিশ্চিত করার জন্য? সমতলে প্লট পাবার জন্য?

লেখক: সেনাবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Let's check your brain 75 + = 79

একই ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved 2022 CHT 360 degree