বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দালাল-বেঈমানের জন্মদাতা কুখ্যাত ইব্রাহিমকে পাহাড়ি জনগণ কখনই ক্ষমা করবে না! টেকনাফে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা খাগড়াছড়িতে অটোরিকশা চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার থানচি বাজার সড়কের বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে ফিলিস্তিন সংকট:বেসামরিক নাগরিকদের গাজা ত্যাগের জন্য সময় নির্ধারণ করাই ইসরাইলের উদ্দেশ্য কুতুবদিয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করলো তুরস্ক মাস্ক পরে অনুশীলনে বাংলাদেশ, দিল্লিতে ম্যাচ নিয়েও শঙ্কা গর্জনিয়ায় পানিতে ডুবে হেফজখানার ছাত্রের মৃত্যু পাকিস্তানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের রানের পাহাড়

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির রজতজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে খাগড়াছড়িতে কর্মসূচি গ্রহণ

ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২২
  • ২৯ পঠিত

পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির অবসানের জন্য তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এবং জনসংহতি সমিতির মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ১৯৯৬ সালে সুদীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ তথা শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর পার্বত্য সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তিনি এটিকে রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেন।

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রথম মেয়াদকালে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকার এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) মধ্যে কোনো তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতা ছাড়াই এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে তিন পার্বত্য জেলায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান ঘটে। জনগণ শান্তি চুক্তি পূর্ববর্তী সেই রক্তাক্ত সংঘাতময় দিনগুলিতে ফিরে যেতে চায় না। তাই পার্বত্য জনজীবনে, জাতি-ধর্ম-বর্ণ, নির্বিশেষে সকল মানুষের কাছে ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির গুরুত্ব অনেক বেশি। এর মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামে বিবাদমান দুই দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান হয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে উন্নয়নের দ্বার উন্মোচিত হয়। সে প্রক্রিয়া এখনো চলমান।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রতিবছরের ন্যায় গুরুত্ব সহকারে পালন করতে যাচ্ছে, দীর্ঘ দুই দশকের অধিক সময় ধরে চলা পাহাড়ের সশস্ত্র সংঘাত অবসানের লক্ষে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হওয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের রজতজয়ন্তী (২৫ বছর) বর্ষপূর্তি আগামী ২ ডিসেম্বর। ঐতিহাসিক এ দিবসটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালনের লক্ষে খাগড়াছড়িতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

রজতজয়ন্তী উপলক্ষে কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি অফিসার্স ক্লাবে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এবং সরকারি গণগ্রন্থাগারে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বিষয়ে চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।

পরে সকাল ১১.০০ টায় জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ভ্রাম্যমাণ সংগীত পরিবেশনা কার্যক্রম, জেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এসআইডি-সিএইচটি, ইউএনডিপি প্রকল্পের প্রশিক্ষিত যুব মহিলাদের সেলাই মেশিন বিতরণ ও গরীব-দুস্থদের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে। এছাড়াও সন্ধ্যায় জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির উপর নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র প্রর্দশন করা হবে।

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু হয়ে শাপলা চত্বর হয়ে খাগড়াছডি টাউন হলে গিয়ে শেষ হবে। র‌্যালি শেষে সকাল ৯.৩০ টায় খাগড়াছড়ি টাউন হল প্রাঙ্গণে “শান্তিচুক্তি একটি ঐতিহাসিক অর্জন” হিসেবে উপলব্ধি করতে স্থাপিত জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক প্রদান, কেক কাটা এবং বর্ণিল ডিসপ্লে প্রদর্শন করা হবে। সকাল ১০টায় ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির রজতজয়ন্তী উপলক্ষে আলোচনা সভা এবং চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হবে।

দুপুর ১টায় শিশু সদন/এতিমখানা/অনাথ আশ্রমে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন, বিকাল ৩টায় সম্প্রীতি কনসার্ট, সন্ধায় খাগড়াছড়ি স্টেডিয়ামে প্রদীপ প্রজ্জ্বল এবং আতসবাজি ও ফানুস উড়ানো এবং সন্ধ্যায় স্ব স্ব দপ্তরে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া শহর জুড়ে মাইকিংসহ বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ব্যানার, ফেস্টুুন ও সজ্জার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে । ঐতিহাসিক পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির চব্বিশ বছর পূর্তি নির্বিঘ্নে সম্পাদনের জন্য সর্ব্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

গৃৃহীত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও শুভ উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির জনাব কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, এমপি, মাননীয় চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা সম্পন্ন), ভারত প্রত্যাগত উপজাতীয় শরণার্থী প্রত্যাবাসন ও পুনর্বাসন এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তু নির্দিষ্টকরণ ও পুনর্বাসন সম্পর্কিত টাস্কফোর্স।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়নে অতীতের মতো এখনও নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। সরকারের আন্তরিক প্রয়াসের কারণে তিন পার্বত্য জেলার জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় দেশি-বিদেশি এনজিও কাজ করে যাচ্ছে পার্বত্যবাসীর ভাগ্যোন্নয়নে।

এমতাবস্থায়, পাহাড়ে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার্থে সর্বোপরি পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন করার লক্ষে সকলের ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা প্রদান করব এ হোক আমাদের অঙ্গীকার।

.                                                         

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Let's check your brain − 2 = 6

একই ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved 2022 CHT 360 degree