বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দালাল-বেঈমানের জন্মদাতা কুখ্যাত ইব্রাহিমকে পাহাড়ি জনগণ কখনই ক্ষমা করবে না! টেকনাফে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা খাগড়াছড়িতে অটোরিকশা চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার থানচি বাজার সড়কের বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে ফিলিস্তিন সংকট:বেসামরিক নাগরিকদের গাজা ত্যাগের জন্য সময় নির্ধারণ করাই ইসরাইলের উদ্দেশ্য কুতুবদিয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করলো তুরস্ক মাস্ক পরে অনুশীলনে বাংলাদেশ, দিল্লিতে ম্যাচ নিয়েও শঙ্কা গর্জনিয়ায় পানিতে ডুবে হেফজখানার ছাত্রের মৃত্যু পাকিস্তানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের রানের পাহাড়

‘পার্বত্য শান্তিচুক্তি আওয়ামী লীগ সরকারের একটি সাহসী ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ’

ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২২
  • ২৫ পঠিত

পার্বত্য শান্তিচুক্তি নিঃসন্দেহে আওয়ামী লীগ সরকারের একটি সাহসী ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। তৃতীয় কোনো পক্ষের মধ্যস্থতা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতময় পরিস্থিতির পরিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনা যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, তা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন ও পরিবীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি।

শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) সকালে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপির সভাপতিত্বে আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে পাহাড়ি-বাঙালিদের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ নির্মূলের জন্য ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি নিঃসন্দেহে আওয়ামী লীগ সরকারের একটি সাহসী ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। তৃতীয় কোনো পক্ষের মধ্যস্থতা বা হস্তক্ষেপ ছাড়াই শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দীর্ঘ সংঘাতময় পরিস্থিতির পরিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে জননেত্রী শেখ হাসিনা যে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন, তা বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। পার্বত্য শান্তিচুক্তির ফলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো শান্তি পুরস্কার লাভ করেন।

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার আবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর চুক্তি অনুযায়ী বিভিন্ন বিভাগ ৩ জেলা পরিষদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি মোতাবেক তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ উন্নয়নের মূল কেন্দ্রবিন্দু। পার্বত্য জেলাসমূহের নৈসর্গিক সৌন্দর্য সমুন্নত রাখা ও পর্যটন শিল্পের প্রসারেও নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারের সময়োচিত পদক্ষেপের ফলে আজ পার্বত্য চট্টগ্রাম আজ অন্যকোন এলাকা থেকে পিছিয়ে পড়া জনপদ নয়। এ অঞ্চলের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, অবকাঠামো, মোবাইল নেটওয়ার্কসহ সকল খাতের উন্নয়নে ব্যাপক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এছাড়াও রাঙামাটিতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’

আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ আরো বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের কার্যক্রমকে আরো গতিশীল ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড আইন-২০১৪ প্রণয়ন করা হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের যেসব দুর্গম এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না, সেসব এলাকায় ২৯৪ কোটি টাকা ব্যয়ের সোলার হোম সিস্টেম এবং সোলার কমিউনিটি সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামবাসীদের ঢাকায় থাকার সুবিধার জন্য রাজধানীর বেইলী রোডে অত্যাধুনিক ‘শেখ হাসিনা পার্বত্য চট্টগ্রাম কমপ্লেক্স’ নির্মাণ করা হয়েছে। ২৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। পার্বত্য এলাকায় প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার পাকা সড়ক নির্মিত হয়েছে; আরও কয়েকশ’ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণাধীন রয়েছে। দেশি-বিদেশি অসংখ্য এনজিও পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়নের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিগত ২৫ বছরে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রায় চুয়াল্লিশ হাজার চল্লিশ কোটি টাকা উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ প্রদান করেছে। চলতি ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে ৯৩৩ কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে।

আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, শান্তিচুক্তির সর্বমোট ৭২টি ধারা রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রদত্ত তথ্যমতে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে। ১৫টি ধারা আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে এবং ৯টি ধারার বাস্তবায়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। শান্তিচুক্তির সকল ধারা বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

এছাড়াও তিনি পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাসরত সর্বস্তরের জনগোষ্ঠীকে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধভাবে সুখী-সমৃদ্ধ তথ্য প্রযুক্তিবান্ধব বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান। একই সাথে আমি পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির ২৫ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানমালার সাফল্য কমনা করেন।

সভাপতির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং বলেছেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন জন বিভিন্ন কথা বলেছেন। কিন্তু একমাত্র বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় পার্বত্যাঞ্চলের সমস্যা রাজনৈতিকভাবে সমাধান হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় পাহাড়ে শান্তি রক্ষার্থে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।’

বীর বাহাদুর উশৈসিং আরো বলেন, পাহাড়ে শান্তিচুক্তির আগে যে পরিবেশ ছিল, আর চুক্তির পর আমরা যে পরিবেশ ফিরে পেয়েছি, সেটা বিনষ্ট হোক, তা আমরা কেউ চাই না। অস্ত্র, গুম, হত্যা ও অপহরণ করে যা সম্ভব হয়নি, সেটা আলোচনার মাধ্যমে সুন্দরভাবে সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। সেই পরিবেশ আমরা সামনে এগিয়ে নেব। আপনারা কেউ বলতে পারবেন না, শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন হয়নি। শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় বাকি আছে। সেটা বাস্তবায়ন করা জন্য প্রধানমন্ত্রী কমিটি করে দিয়েছেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে আমাদের কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘যদি চুক্তি বাস্তবায়ন না হয় তাহলে এতগুলো ধারা কীভাবে বাস্তবায়ন হলো। আর যেগুলো বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলো বাস্তবায়ন কমিটি বাস্তবায়নে কাজ করে যাবে। যার ফলে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারবো। প্রধানমন্ত্রীকে আমরা সব সবময় এই বিষয়ে অবহিত করছি। শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন হয়নি বলে পার্বত্যাঞ্চলে এখনো সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও গোলাগুলি করে কোন লাভ হবে? সুতরাং যেটুকু বাকি আছে আমরা তা বাস্তবায়ন করে সামনের দিকে এগিয়ে যাব। সমাধান তো আমাদের হাতে। আমরা সমাধান করবো। কিন্তু পার্বত্যাঞ্চলে চাঁদাবাজি-সন্ত্রাসী হয়ে থাকে। যা আমাদের সুখ দেবে না।’

এসময় তিনি অনুরোধের সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামে আর কোন সংঘাত-সংঘর্ষ নয়। আমরা যে পরিবেশে আগাচ্ছি এবং যে কাজগুলো বাকি আছে, সেগুলো পরিপূর্ণ করার জন্য সকলে এক হয়ে সামনে আগাতে হবে। সকলকে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। অশান্তি কখনো উন্নয়ন আনে না। উন্নয়নের মূল উপাদান হলো শান্তিশৃঙ্খলা। আমরা আর কাউকে হারাতে চাই না। আমরা শান্তি চাই, সম্প্রীতি চাই। শান্তিচুক্তির ২৫ বছরে পার্বত্যাঞ্চল সামনের দিকে যতটা এগিয়ে গেছে। বাকিটুকু এগুতে আরো ২৫ বছর সময় লাগবে না, যদি সকলের আন্তরিকতা থাকে।

এসময় আরও বক্তব্য রাখেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ বাসন্তী চাকমা, মুখ্য আলোচক ছিলেন সাবেক সচিব নব বিক্রম কিশোর ত্রিপুরা ।এছাড়াও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ, ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Let's check your brain 38 − 28 =

একই ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved 2022 CHT 360 degree