বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ০২:০৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দালাল-বেঈমানের জন্মদাতা কুখ্যাত ইব্রাহিমকে পাহাড়ি জনগণ কখনই ক্ষমা করবে না! টেকনাফে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা খাগড়াছড়িতে অটোরিকশা চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার থানচি বাজার সড়কের বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে ফিলিস্তিন সংকট:বেসামরিক নাগরিকদের গাজা ত্যাগের জন্য সময় নির্ধারণ করাই ইসরাইলের উদ্দেশ্য কুতুবদিয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করলো তুরস্ক মাস্ক পরে অনুশীলনে বাংলাদেশ, দিল্লিতে ম্যাচ নিয়েও শঙ্কা গর্জনিয়ায় পানিতে ডুবে হেফজখানার ছাত্রের মৃত্যু পাকিস্তানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের রানের পাহাড়

মাদক পাচারে রোহিঙ্গা-বাংলাদেশি সিন্ডিকেট তৎপর, পাসপোর্ট ও এনআইডি নিতে অপকৌশল

ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ অক্টোবর, ২০২২
  • ৩৫ পঠিত

টেকনাফের বিভিন্ন ঘর-বাড়ি ও ভাড়া বাসায় রোহিঙ্গারা অবাধে বসবাস করে চলেছে। শুধু তাই নয়, মিয়ানমার থেকে অবৈধভাবে এসে এখানে অবস্থান করে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ও মানব পাচারের মত ঘৃণ্য কাজ। আত্বীয়-স্বজন ও বিভিন্ন ভাড়া বাসায় বসে এসব অপকর্মে লিপ্ত থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপও গ্রহণ করেনি। উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব বিষয়ে একাধিকবার আলোচনা হলেও রহস্যজনকভাবে টেকনাফ উপজেলার চিহ্নিত মাদককারবারী পরিবারের ঘর ও ভাড়া বাসায় কোন আচর লাগেনি। এতে করে প্রতিনিয়ত মিয়ানমারের মংডু ও টেকনাফকেন্দ্রিক ইয়াবা সিন্ডিকেটগুলো আরো সক্রিয় হয়ে উঠেছে।

টেকনাফ পৌর সভায় এমন একটি মাদক জগতের সিন্ডিকেট এর নাম হচ্ছে ” মসুমনি সি্ডিকেট।” টেকনাফ কেকে পাড়ার আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে মহসিন ওরফে মসুমনি। বিভিন্ন সময়ে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার তৈরি করা মাদক পাচারকারী তালিকার অন্যতম সে। তাকে ঘিরে টেকনাফ-মংডু কেন্দ্রীক বৌ-জামাই-শালি-শ্বশুর-শাশুরি মিলে আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে সেই মসুমনি।

কীভাবে পাচার কাজে বহাল ” মসুমনি”?
মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি চালান নিয়ে টেকনাফে অবস্থান করছে মংডু এলাকার জনৈক হোসেন জোহার। সে মিয়ানমারের মংডু এলাকার আলোচিত নারী মাদককারবারী তৈয়ুবা বেগমের বর্তমান স্বামী। গত ৬ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) একটি নৌকাযোগে মাদকের বড় চালান নিয়ে টেকনাফ পৌর এলাকার কায়ুখখালী পাড়া (কেকে পাড়া) এলাকার আবু বক্কর ছিদ্দিক ওরফে মসুমনির ঘরে উঠে। মসুমনি টেকনাফের মাদক জগতের ডন এবং মিয়ানমারের মংডু শহরের বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদ আলী ও তৈয়ুবা বেগম দম্পতির কন্যা বেনজির বেগমের স্বামী। সেই সূত্রে সৎ মেয়ের জামাই মসুমনির ঘরে অবস্থান করছে মিয়ানমারের মংডু এলাকার ইয়াবা ডন হোসেন জোহার। শুধু তাই নয়, তৈয়বা বেগমের আরো এক মেয়ে রোকসানা বেগম (সুসু) জনৈক মনির উল্লাহকে দ্বিতীয় স্বামী হিসেবে বিয়ে করে কেকে পাড়ায় বদি আলমের ভাড়া ঘরে অবস্থান করছে। তাছাড়া বেনজির বেগম ও রোকসানা বেগমের এক ভাই নজরুল কেকে পাড়া পাড়ায় মোরশেদ আলমের মেয়েকে বিয়ে করে শ্বশুর বাড়িতে বসে টেকনাফ স্থল বন্দর ও মিয়ানমার কেন্দ্রীক মাদক ও মানব পাচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগ উঠেছে। এ ছাড়া পিতা- মাতা দু’জনই মিয়ানমার নাগরিক হওয়ার পরও টেকনাফে বিবাহ সূত্রে অবস্থান করে বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয় পত্র হাতিয়ে নিয়েছে বেনজির বেগম। এ নিয়ে সচেতন মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। অবশ্য তার ঘরে সৎ শ্বশুর অবস্থান করছে না বলে জানিয়ে বলেন, ” প্রায় এক যুগ আগে বিয়ে করে সংসার পেতেছি। এখন কেন এসব নিয়ে ঝামেলা করা হচ্ছে। “

চট্টগ্রামের ভোটার হওয়া মিয়ানমারের নাগরিক কালা আহমদ এখন আড়াই লাখ ইয়াবাসহ মংডু কারাগারে:
একইভাবে মিয়ানমারের মংডু শহরের বাসিন্দা আমির আহমদ ওরফে কালা আহমদ চট্টগ্রামে বসতি গড়ে তুলে। চট্টগ্রামের হালি শহর এলাকায় ফ্ল্যাট বাড়ি নিয়ে স্ত্রী ফাতেমা বেগমসহ পরিবার পরিজন নিয়ে অবস্থান করতেন। চালিয়ে যেতেন মাদক কারবার। তাদের মেয়ে রুমাকে বিয়ে দেয় কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার পালংখালী এলাকার আবসার নামক যুবকের সাথে। অবশ্য পরে এদের সংসারটি বেশি দিন টিকেনি। পরবর্তীতে ওই মেয়েসহ কালা আহমদের পরিবার মিয়ানমারে পাড়ি জমান। সেখান থেকে সময়ে সময়ে বাংলাদেশ-মিয়ানমার যাতায়াত করতেন।

কালা আহমদ সম্প্রতি মিয়ানমারের মংডু শহরের আড়াই লাখ পিস ইয়াবাসহ আটক হয়। সেখানে তার বিচার কাজ চলছে। সেই আমির আহমদ ওরফে কালা আহমদ বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয় পত্র ও পাসপোর্টধারী। শুধু তাই নয়, স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে রাজবাড়ী এলাকার ঠিকানায় পাসপোর্ট তৈরি করে দিয়েছে। পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রাম হালিশহর এলাকায় জাতীয় পরিচয় পত্রও ধরিয়ে দিয়েছে। এ পরিবারটি বছর খানেক ধরে মিয়ানমারের গিয়ে সেখান থেকে টেকনাফ স্থল বন্দরে নারিকেল, পেয়াজ, কচুসহ বিভিন্ন আইটেমের ভেতর ইয়াবা ও স্বর্ণ পাচার চালিয়ে থাকে। টেকনাফ পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ড চৌধুরী পাড়ার ফরিদ আলম, সালমান, টেকনাফ বাজারের ” বড় বাজার ‘ নামক দোকানের মালিক চট্টগ্রাম লোহাগড়া উপজেলার বাসিন্দা সজিবের সাথে সিন্ডিকেট তৈরি করে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি আমির আহমদ ওরফে কালা আহমদ মিয়ানমারের ইয়াবাসহ আটক হলেও স্ত্রী ফাতেমা বেগম মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে চট্টগ্রাম অবস্থান করছে বলে একটি নির্ভরশীল সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। চট্টগ্রামের ফ্ল্যাট বাড়িটি পার্টনার সজিবকে হস্তান্তর করে ওই ফাতিমা বেগম ফের মিয়ানমারের চলে যাওয়ার চেষ্টা করছে এমন তথ্য সরকারি একাধিক সংস্থার কাছে রয়েছে।

এ ধরনের শত শত রোহিঙ্গা-বাংলাদেশি সিন্ডিকেট ইয়াবা ও মানব পাচার কাজে জড়িত রয়েছে। তবে সেই সিন্ডিকেট ভাঙ্গার তৎপরতা নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

টেকনাফের বিভিন্ন ভাড়া বাসায়, স্বজনদের বাড়ি ঘরে মিয়ানমার ও আশ্রয় ক্যাম্প থেকে মাদক নিয়ে এসে দিব্বি আরামে কারবার পরিচালনা করা, নাফনদী সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এসব মাদক ও মানব পাচারকারীদের যাতায়াত বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বেশ কয়েকবার আলোচনা হয়েছে। এ প্রেক্ষিতে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান সভাকে অবহিত করে বলেন, ” টেকনাফের চিহ্নিত মাদককারবারীরা মিয়ানমারের নাগরিকদের বিয়ে করে আত্বীয়তা তৈরি করছে। যার ফলে ক্যাম্পের বাহিরে ভাড়া বাসা ও আত্বীদের ঘরে অবস্থান করে অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে। অচিরেই এসব চিহ্নিত মাদককারবারী পরিবারের ঘরে ও ভাড়াবাসায় অভিযান পরিচালনা করার কথাও জানান তিনি।

রোহিঙ্গা ভোটার অন্তর্ভুক্ত হওয়া বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বেদারুল ইসলাম জানান, ” কিছু মিয়ানমার নাগরিক (রোহিঙ্গা)
বিভিন্ন সময়ে ভোটার হয়েছে এমন অভিযোগ নির্বাচন কমিশনে হয়েছে। এর তদন্ত চলমান রয়েছে। যে সময়েই ভোটার হোক না কেন তদন্তে প্রমাণিত হলে তালিকা হতে বাদ দেওয়ার পাশাপাশি অবৈধ এসব অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Let's check your brain 65 + = 75

একই ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved 2022 CHT 360 degree