বৃহস্পতিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৩, ০৪:২২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দালাল-বেঈমানের জন্মদাতা কুখ্যাত ইব্রাহিমকে পাহাড়ি জনগণ কখনই ক্ষমা করবে না! টেকনাফে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা খাগড়াছড়িতে অটোরিকশা চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার থানচি বাজার সড়কের বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে ফিলিস্তিন সংকট:বেসামরিক নাগরিকদের গাজা ত্যাগের জন্য সময় নির্ধারণ করাই ইসরাইলের উদ্দেশ্য কুতুবদিয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করলো তুরস্ক মাস্ক পরে অনুশীলনে বাংলাদেশ, দিল্লিতে ম্যাচ নিয়েও শঙ্কা গর্জনিয়ায় পানিতে ডুবে হেফজখানার ছাত্রের মৃত্যু পাকিস্তানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের রানের পাহাড়

রোহিঙ্গাদের অবশ্যই মিয়ানমারে ফিরে যেতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ২৫ পঠিত

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমি বারবার বলেছি, তারা (রোহিঙ্গারা) মিয়ানমারের নাগরিক। সুতরাং, তাদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিয়ে তাদের জন্মভূমি মিয়ানমারেই ফিরে যেতে হবে।’

তিনি বলেন, সবাইকে বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে হবে যে, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের পক্ষে আর কোনও লোক নেওয়া সম্ভব নয়, রোহিঙ্গাদের অবশ্যই ফিরে যেতে হবে।

ওয়াশিংটনে ভয়েস অব আমেরিকার (ভোয়া) বাংলা সার্ভিসের সঙ্গে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি মঙ্গলবার সম্প্রচার করা হয়।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবর্তনের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের বারবার আহ্বানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত বিশাল জনসংখ্যার (প্রায় সাড়ে ১১ লাখ রোহিঙ্গা) দায়িত্ব একা একটি দেশের পক্ষে নেওয়া অসম্ভব। শুধু আশ্রয় দেওয়াই নয়, এত বিশাল জনসংখ্যার জন্য জীবিকার ব্যবস্থা করাও একটি বড় দায়িত্ব, যা কোনো দেশ একা বহন করতে পারে না।

বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে আর কোনো লোক নেওয়ার অবস্থানে নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান কক্সবাজারের বন ধ্বংস করেছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বিনষ্টের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগের কারণ হচ্ছে এবং এলাকার আবাদি জমি ব্যাপকভাবে হ্রাস পাচ্ছে। অনেক রোহিঙ্গা মানবপাচারের পাশাপাশি মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানে জড়িয়ে পড়েছে এবং ক্যাম্পের অভ্যন্তরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্বে জড়িয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র সফর করছেন। এ সফরে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৭তম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়াসহ নানা কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সাক্ষাৎকারটি নেয় ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগ।

মানবাধিকার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার শুধু মানবাধিকার রক্ষা করেনি, মানবাধিকার সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করেও তা সংরক্ষণ করেছে। বাংলাদেশে একটি মানবাধিকার কমিশন রয়েছে এবং তারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের তদন্ত করে থাকে।

‘আমরা সবসময় (অভিযোগের) তদন্ত করছি। কোনো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়, এমনকি এটি আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কোন সদস্য দ্বারা সংঘটিত হলেও, যা আগে দেখা যায়নি।’

বিএনপির অভিযোগের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, তারা অনেক কথা বলার পর ৭০ জনের একটি তালিকা জমা দিয়েছে। তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ লোককে পরবর্তী সময়ে বিএনপির মিছিলে পাওয়া গেছে এবং কেউ কেউ তাদের ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপন করেছে এবং সাতটি ঘটনায় দেখা গেছে তারা মারা গেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর পাশাপাশি শত শত বিমানবাহিনী-সেনা অফিসার ও সৈনিককে হত্যা করেছিলেন। নিহতদের মৃতদেহ কখনই পাওয়া যায়নি, এমনকি তাদের স্বজনরাও জানতে পারেননি তাদের কী অপরাধ ছিল। যারা এখন মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলছে, তারা ওই সময় বিচারও চাইতে পারেন নি।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের আমলে গণমাধ্যমের সংখ্যা বেড়েছে এবং তারা যা খুশি বলার স্বাধীনতা ভোগ করছে। সবকিছু বলার পর কেউ যদি বলে যে তাকে কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না, তার উত্তর কী হবে? এটাই আমি জানতে চাই।

নির্বাচন কমিশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন (ইসি) যাতে অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতে পারে সেজন্য তার সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য একটি আইন প্রণয়ন করেছেন এবং আইন অনুযায়ী কমিশন গঠিত হয়।

তিনি বলেন, এখন সরকার কমিশনের বাজেট প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারে না এবং এটি তার ইচ্ছামত অর্থ ব্যয় করতে স্বাধীন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার দল আওয়ামী লীগ আন্দোলনের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করেছে এবং তখন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বলেছিলেন, পাগল ও শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ হতে পারে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় কারসাজি করেছিলেন খালেদা জিয়া। তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে নিজেদের লোক নিয়োগের জন্য প্রধান বিচারপতির বয়স দুই বছর বাড়িয়ে সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করেছিল। বিএনপি সরকার নির্বাচনে কারচুপির লক্ষ্যে ১ কোটি ২৩ লাখ ভুয়া ভোটার দিয়ে ভোটার তালিকা তৈরি করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সংগ্রামের মাধ্যমে ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে বলে জনগণের ভোটাধিকার নিয়ে তারা কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেবেন না। আওয়ামী লীগকে ভোট না দিলে তার বলার কিছু নেই।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Let's check your brain 3 + 7 =

একই ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved 2022 CHT 360 degree