বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দালাল-বেঈমানের জন্মদাতা কুখ্যাত ইব্রাহিমকে পাহাড়ি জনগণ কখনই ক্ষমা করবে না! টেকনাফে আদালতের আদেশ অমান্য করে জমি দখলের চেষ্টা খাগড়াছড়িতে অটোরিকশা চালকের গলাকাটা লাশ উদ্ধার থানচি বাজার সড়কের বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে ফিলিস্তিন সংকট:বেসামরিক নাগরিকদের গাজা ত্যাগের জন্য সময় নির্ধারণ করাই ইসরাইলের উদ্দেশ্য কুতুবদিয়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে স্কুল ছাত্রীর আত্মহত্যা ইসরায়েল থেকে রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহার করলো তুরস্ক মাস্ক পরে অনুশীলনে বাংলাদেশ, দিল্লিতে ম্যাচ নিয়েও শঙ্কা গর্জনিয়ায় পানিতে ডুবে হেফজখানার ছাত্রের মৃত্যু পাকিস্তানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের রানের পাহাড়

হারিয়ে যাচ্ছে পাহাড়ে উৎসবের প্রতীক বিজু ফুল

ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত: বুধবার, ২০ জুলাই, ২০২২
  • ৪৯ পঠিত

চৈত্র মাসে বিজু ফুল ফুটলেই পাহাড়ে বিজু উৎসবের আমেজ দেখা যায়। পাহাড়ে পাহাড়ে ক্ষণে ক্ষণে বিজু পেক্কো (বিজু পাখি) বিজু বিজু বলে ডেকে ওঠে তখন। হাদি আর পিনোন বুনতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন নারীরা। আর জুম বোনার প্রস্তুতিও শুরু হয়ে যায় জুমিয়াদের। চোয়ানি-জোগড়া (পানীয়) আর পাজনের (পাচন) উপকরণ জোগাড় চলতে থাকে বাড়িতে বাড়িতে।

বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু (বৈসাবি)—সম্প্রদায়ভেদে উৎসবের নাম ভিন্ন ভিন্ন হলেও তার রূপ বা চেহারায় সেই ভিন্নতা নেই। বিজু ফুলের ক্ষেত্রেও তা-ই। চাকমারা যাকে ‘ভাত জোড়া’ বলে, ত্রিপুরাদের কাছে তা ‘কুমুই-বোবা’ আর মারমারা সেটাকে ডাকে ‘চাইগ্রাইটেং’ ফুল বলে। তবে পাহাড়ে বসবাসরত বাঙালিরা এই ফুলকে ভিউফুল বলে।

দেখতে অনেকটা রঙ্গন ফুলের মতো এই পাহাড়ি ফুল। থোকায় থোকায় ফোটা এই ফুলের রং সাদা। মাঝে ঈষৎ গোলাপি আভা নিয়ে তার রূপ। যে কারোর পাহাড়ে কোথাও দেখা মিললেই এই ফুলে হাত বাড়াতে ইচ্ছা হয়। বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিহু উৎসব এই ফুল ছাড়া কল্পনাও করা যায় না। সব সম্প্রদায়ের এই উৎসব তিন দিনের। চাকমাদের কাছে এই তিন দিন ফুল বিজু, মূল বিজু আর গজ্জেপজ্জে বিজু নামে পরিচিত।

গঙ্গায় বা নদীতে বিজু ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে বিজু উৎসব শুরু হয়। ঘরেও বিজু ফুলের উপস্থিতি থাকে। বিজু ফুল ছাড়া ঘরে উৎসবের মেজাজই আসে না। চাকমাদের প্রচলিত বিশ্বাস, ফুল বিজুর দিন এই ফুলের ঘ্রাণ নিলে রোগবালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। তবে এই ফুলের তেমন আর একটা দেখা মেলে না। অনেক কিছুর মতো এটিও হারিয়ে যাচ্ছে পাহাড় থেকে।

৮ এপ্রিল খাগড়াছড়ির পানছড়ি সদর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে কানুনগোপাড়ায় একটি ঝোপে দেখা মিলল বিজু ফুলের। ঘন ঝোপের মধ্যে সবুজ পাতার ফাঁকে থোকা থোকা ফুটে ছিল এই ফুল। বিদ্যালয়ে যাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী পাতা দিয়ে আড়াল করে রাখছিল ফুলগুলো, ফুল বিজুতে নদীতে ভাসাবে বলে।

গাছের প্রতিটি শাখার অগ্রভাগে থোকায় থোকায় বিজু ফুল ফোটে। ঊর্ধ্বমুখী মঞ্জরিগুলো হালকা সাদা আর গোলাপি। ফুল আকারে ছোট নলাকৃতির। প্রতিটি ফুলের পাপড়ি থাকে চারটি। ফুটন্ত ফুল অনেক দিন স্থায়ী হয়।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Let's check your brain 11 − 8 =

একই ধরনের আরও সংবাদ
© All rights reserved 2022 CHT 360 degree